Skip to main content

লিভারের বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ডায়েট কেমন হওয়া উচিত?

লিভার মানবদেহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। শরীরকে সুস্থ রাখতে প্রয়োজন সুস্থ লিভার। আর লিভারকে বলা হয় শরীরের পাওয়ার হাউজ। লিভারের বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলছে। অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস লিভারের যে রোগগুলো সাধারণত দেখা দেয়, তার মাঝে উল্লেখযোগ্য হলো-

  • ভাইরাল হেপাটাইটিস (যা জন্ডিস নামে পরিচিত)
  • ফ্যাটি লিভার
  • লিভার সিরোসিস
  • হেপাটিক কোমা
  • লিভার ফেইলর

লিভারের এই সব সমস্যায় আমাদের করণীয় কী এবং এ সময় আমাদের ডায়েট কেমন হওয়া উচিত তা নিয়েই জানাবেন পুষ্টিবিদ সাদিয়া ইসরাত স্মৃতি।

লিভারের বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের খাদ্যতালিকা

জন্ডিস

জন্ডিস কোনো রোগ নয়, বরং এটি হলো রোগের লক্ষণ। জন্ডিস এর মূল কারণ হচ্ছে শরীরে বিলিরুবিনের পরিমাণ বেড়ে যাওয়া। জন্ডিস হলে সাধারণত শরীরের ত্বক, চোখে হলুদাভ রঙ দেখা যায়।

লক্ষণ

জন্ডিস এর অন্যতম প্রধান লক্ষণ হচ্ছে চোখ ও প্রসাবের রং হলুদ হয়ে যাওয়া। জন্ডিস এর মাত্রা বেড়ে গেলে পুরো শরীর গাঢ় হলুদবর্ণ হয়ে যায়। স্টুল সাদা হয়ে যাওয়া, ডিসেন্ট্রি, পেটে ব্যথা, শারীরিক দুর্বলতা, জ্বর, বমি, পেটব্যথা, ক্ষুধা কমে যাওয়া- জন্ডিসের লক্ষণ।

জন্ডিস রোগীর ডায়েট ও করণীয়

১) সবসময় পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকা, জীবাণুমুক্ত খাবার ও পানীয় গ্রহণ করা উচিত।

২) রাস্তাঘাটে খোলা পানি, ফলের জুস, শরবত ইত্যাদি পানের ক্ষেত্রে সাবধান বা বিরত থাকতে হবে।

৩) জন্ডিস রোগীদের ক্ষেত্রে সবচেয়ে জরুরি বিষয় হচ্ছে তাদের ডায়েট হবে কার্বোহাইড্রেট বা শর্করা জাতীয়। ফ্যাট কম খেতে হয় বলে কার্ব থেকে খাদ্যচাহিদা পূরণ করতে হয়।

৪) ঘরে বানানো শরবত, গ্লুকোজ বা আখের রস খেতে হবে এ সময়।

৫) ক্যান বা প্যাজেটজাত জুস অ্যাভয়েড করতে হবে, ফ্রেশ ফলের রস খেতে হবে।

৬) জন্ডিস রোগীকে আক্রান্ত হওয়ার ২-৩ দিন পর থেকে সেদ্ধ শাক-সবজি দেওয়া যেতে পারে।

৭) ফ্যাটজাতীয় খাবার যতটা সম্ভব এড়িয়ে যেতে হবে। যেকোনো মসলাযুক্ত, ঝাল ঝাল তেলে ভাজা, চর্বিযুক্ত মাংস, কলিজা, মগজ খাওয়া যাবে না।

৮) ডিমের কুসুম না খেয়ে সাদা অংশ খেতে হবে। ৩-৪ দিন পর যখন কিছুটা ভালোর দিকে যাবে তখন স্কিম মিল্ক খেতে পারবেন।

৯) ঘি, মাখন, চকলেট, কেক, ফাস্ট ফুড, চা, কফি এড়িয়ে চলতে হবে।

১০) নিয়মিত গ্লুকোজের পানি, চিনি পানি, ফলের রস খেতে হবে।

১১) জাউ ভাত, ভাত, সুজি দিতে হবে ১ম ১-২ দিন সাথে আলু সেদ্ধ। পরে হালকা মসলায় রান্না মুরগি, মাছ তেল/চর্বি ছাড়া মাংস, সহজপাচ্য খাবার দিতে হবে। সঠিক ডায়েট জন্ডিস এর প্রধান চিকিৎসা।

ফ্যাটি লিভার

সাধারণত আমাদের লিভারে ৫% পর্যন্ত চর্বি জমা থাকে, যদি চর্বির পরিমাণ ৫% এর বেশি জমা হয়, তখন ফ্যাটি লিভার হয়। লিভার সিরোসিসের একটি অন্যতম কারণ ফ্যাটি লিভার।

ফ্যাটি লিভার কেন হয়?

ফাস্ট ফুড, চর্বিযুক্ত খাবার বেশি করে খেলে ফ্যাটি লিভার দেখা যায়। এছাড়াও, ডায়াবেটিস, থাইরয়েডের প্রবলেম, অ্যালকোহল সেবনের ফলেও ফ্যাটি লিভার হয়ে থাকে।

ফ্যাটি লিভারে আক্রান্ত হলে করণীয়

১) শরীরের ওজন কমাতে হবে, শারীরিক ব্যয়াম করতে হবে। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।

২) কম ক্যালরির ও আঁশযুক্ত খাবার খেতে হবে, সবুজ শাক-সবজি, ফলমূল ইত্যাদি।

৩) চর্বিযুক্ত খাবার যেমন- ঘি, মাখন, পনির, রেড মিট, মাছের ডিম, বড় মাছের মাথা এড়িয়ে চলতে হবে।

৪) ফাস্ট ফুড, কার্বোনেটেড ফুড, সফট ড্রিংকস, চকোলেট খাওয়া যাবে না।

৫) শারীরিক পরিশ্রম ও ব্যায়াম শরীরের ওজন ও লিভারের চর্বি কমায়। প্রতিদিন কিছু সময় হাঁটার চেষ্টা করুন, ঝুঁকে এক্সারসাইজ করা যাবে না। টায়ার্ড হলে রেস্ট নিতে হবে, শরীর বেশি খারাপ লাগলে শুয়ে পড়তে হবে।

লিভার সিরোসিস

এ অবস্থায় লিভারের স্বাভাবিক গঠন এবং একটা পর্যায়ে কার্যক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায়। লিভার সিরোসিস হলে পেটে পানি চলে আসে। তাই সাবধানতা অবলম্বন করা এবং চিকিৎসক এর পরামর্শ মতো চলা অতি আবশ্যক।

লিভার সিরোসিসে খাবার

১) লিভার সিরোসিসের রোগীদের বাইরের খাবার টোটালি অ্যাভয়েড করতে হবে।

২) ফুটানো নয় বা বিশুদ্ধ নয় এমন পানি খাওয়া যাবে না।

৩) রোগীদের তরলজাতীয় খাবার হিসেব করে খেতে হবে।

৪) তরকারিতে লবণ পরিমাণমতো দিতে হবে, এর বাইরে লবণ খাওয়া যাবে না। খাবারে বেকিং পাউডার দেওয়া যাবে না।

৫) বেকারী আইটেমস যেমন বিস্কুট, কেক, ড্রিংকস যেমন: কোক, পেপসি ইত্যাদি এড়িয়ে চলা উচিত।

৬) রোগীরা যদি বেশি বেশি তরল পান করেন বা সোডিয়ামযুক্ত খাবার খান, তাহলে তাদের পেটের পানি বেড়ে বড় দূর্ঘটনা ঘটতে পারে।

৭) প্রাণীজ প্রোটিন যেমন মাছ, মাংস, ডিম, দুধ ইত্যাদি খুব বেশি পরিমাণে খাওয়া যাবে না। প্ল্যান্ট প্রোটিন যেমন ডাল সামান্য পরিমাণে খেতে পারবে।

লিভারের বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ডায়েট কেমন হওয়া উচিত, সেটা আমাদের জানা হয়ে গেলো। আশা করি, লিভারের এই অসুখগুলো নিয়ে সবাই সচেতন হবেন। যেকোনো সমস্যায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অথবা এক্সপার্টের পরামর্শ মতো চলবেন।

লিখেছেন,

সাদিয়া ইসরাত স্মৃতি, নিউট্রিশনিস্ট, ডক্টর সিরাজুল ইসলাম মেডিক্যাল কলেজ হসপিটাল

ছবিঃ সাটারস্টক

The post লিভারের বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ডায়েট কেমন হওয়া উচিত? appeared first on Shajgoj.



from Shajgoj https://ift.tt/RvZ4kGx
Munia

Comments

Popular posts from this blog

Uttara Lake View Specialized Hospital

Uttara Lake View Specialized Hospital Address: Address: House#34, Road# 5A/10B, Sector#11, Uttara, Dhaka, 1230 Phone:  01813-904080 Available Services: 24 hours emergency service Self-contained ICU NICU HDU Cabin General Ward Corona Unit Chamber of Specialist Doctors. Also, all units are open including any complex operation. from Specialist Doctor List https://ift.tt/GFQ56KdRb via IFTTT

ডায়াবেটিক রোগীর পায়ের যত্ন কীভাবে নেওয়া উচিত?

আনিস আহমেদ নতুন এক জোড়া জুতা কিনেছেন। প্রথম দিন জুতা পায়ে অফিস করার পর থেকেই পায়ে ফোস্কা পড়েছে। তিনি ভাবলেন দিন কয়েকের মধ্যে সেরে যাবে। কিন্তু কয়েকদিন গেলেও ফোস্কা শুকাচ্ছে না, বরং ঘা বড় হয়েছে। ভাবনায় পরে চিকিৎসকের কাছে গিয়ে তিনি জানতে পারলেন তার এই সমস্যা ডায়াবেটিসজনিত জটিলতা। ডায়াবেটিক রোগীর পায়ের যত্ন নিয়ে বিশেষভাবে সচেতন হতে হয়। অন্যথায় সমস্যা আরো বেড়ে যেতে পারে। ডায়াবেটিস এমন একটি দীর্ঘমেয়াদি রোগ যা রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা অনিয়ন্ত্রিত রাখে এবং শরীরের বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গে এর প্রভাব ফেলে। ডায়াবেটিসের ক্ষতিকর প্রভাব পায়ের ওপরে বিশেষভাবে দেখা যায়। দীর্ঘমেয়াদি ডায়াবেটিসের কারণে পায়ের স্নায়ু ও রক্তনালী ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যার ফলে পায়ে সংবেদনশীলতার অভাব, রক্ত সঞ্চালনের সমস্যা এবং সংক্রমণ দেখা দিতে পারে। তাই ডায়াবেটিক রোগীদের পায়ের যত্ন নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। ডায়াবেটিক রোগীর পায়ের যত্ন নেওয়া জরুরি কেন? ডায়াবেটিসের কারণে পায়ের স্নায়ু ও রক্তনালী ক্ষতিগ্রস্থ হয়। এতে পায়ের স্নায়ুগুলো সংবেদনশীলতা হারাতে শুরু করে। এই অবস্থাটি নিউরোপ্যাথি নামে পরিচিত। নিউরোপ্যাথির কারণে রোগী অনেকসময় পায়ে আঘাত...

বিবি ক্রিম vs সিসি ক্রিম | স্কিন টাইপ অনুযায়ী কোনটি আপনার জন্য স্যুইটেবল?

ন্যাচারাল মেকআপ লুকের জন্য এখন বিবি ক্রিম ও সিসি ক্রিম বেশ জনপ্রিয়। পার্টি মেকআপ বা ফুল কভারেজ মেকআপের ক্ষেত্রে ফাউন্ডেশন ইউজ করা হয়। কিন্তু যারা রেগুলার হালকা মেকআপ করে বাইরে বের হন, তাদের জন্য বেস্ট অপশন হচ্ছে BB বা CC ক্রিম । কিন্তু আমরা অনেকেই বুঝতে পারি না যে স্কিন টাইপ ও কনসার্ন অনুযায়ী কীভাবে রাইট প্রোডাক্টটি সিলেক্ট করতে হবে। এই দু’টি মেকআপ প্রোডাক্টের বেনিফিট বা কার্যকারিতা নিয়ে আজকের ফিচার। এগুলোর মধ্যে বেসিক ডিফারেন্সটা আসলে কোথায়, সেটাও জানা হয়ে যাবে। বিবি ক্রিম BB (Beauty Balm, Blemish Balm) ক্রিম স্কিনকে ইভেন টোনড করে এবং ব্লেমিশ হাইড করে ফ্ললেস লুক দেয় নিমিষেই। এতে স্কিন ময়েশ্চারাইজিং ও হাইড্রেটিং এলিমেন্টস থাকে, যার কারণে ড্রাই বা নরমাল স্কিনের জন্য এটি একদম পারফেক্ট। এর টেক্সচার ফাউন্ডেশনের থেকে লাইট, তাই কভারেজটাও হয় একদম ন্যাচারাল। মানে একদমই হেভি ফিল হয় না, আর স্কিনটাও পিকচার পারফেক্ট দেখায়। অনেক বিবি ক্রিমে সান প্রোটেকশন ফ্যাক্টর বা SPF থাকে। সিসি ক্রিম CC (Color Corrector, Complexion Corrector) ক্রিমের ফর্মুলা লাইট ওয়েট ও লং লাস্টিং। ম্যাট ফর্মুলার হওয়াতে অয়েল...